ডিজিটাল বাংলাদেশ ইন্টারনেটের গতিতে এতো পিছিয়ে কেনো?

প্রযুক্তির দীর্ঘ পথ চলায় উন্নত বিশ্ব এখন 5G এর পথে। প্রযুক্তি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও সে পথেই হাঁটছে। সাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে 5G ইন্টারনেট চালু করতে চায় সরকার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও অথবা টিভিতে যেকোনো অনুষ্ঠান দেখার সময় আমাদের সামনে তুলে ধরা হয় দেশের ইন্টারনেট অপারেটর গুলির চাকচিক্যময় সব অ্যাড। আর এইসব অ্যাডে বার বার বলা হয়। আমরা 4G নেটওয়ার্ক এর পরে 5G নেটওয়ার্ক এর সুবিধা পেতে যাচ্ছি। আমাদের মনেও তেমনটাই ধারণা। কিন্তু ইন্টারনেট স্পিড টেস্টের গ্লোবাল র‌্যাঙ্কিং দেখলে এই ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যাই। যেখানে ইন্টারনেট গতির দিক দিয়ে সবার উপরে আছে।
যথাক্রমে-

১ সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৯৩.৫১ এমবিপিএস)
২ দক্ষিণ কোরিয়া (১৮০.৪৮ এমবিপিএস)
৩ কাতার (১৭১.৭৬ এমবিপিএস)
৪ নরওয়ে (১৬৭.৬০ এমবিপিএস)
৫ সাইপ্রাস (১৬১.৮০ এমবিপিএস) ইত্যাদি দেশগুলো।

এবং এখানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের উপরে লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে-
১৩০. তানজানিয়া (১৪.১৪ এমবিপিএস)
১৩১. সোমালিয়া (১৩.৩১ এমবিপিএস)
১৩২. ঘানা (১৩.২৩ এমবিপিএস)
১৩৩. সুদান (১২.৮৫ এমবিপিএস)
১৩৪. জিম্বাবুয়ে (১২.৬৯ এমবিপিএস) ইত্যাদি দেশ গুলো।
এবং ১৩৫. বাংলাদেশ (১২.৪৮ এমবিপিএস) অবস্থান করছে।

হিসেব বলছে দেশের সবথেকে বড় অপারেটর গ্রামীনফোন ৮ কোটি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে মাত্র ৪৭ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যবহার করে। অর্থাৎ, মেগাহার্জ প্রতি তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১৭ লাখেরও বেশি। রবির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১১ লাখ প্রায়। এবং বাংলালিংক এর ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৯ লাখ প্রায়। অপারেটররা বলছেন তরঙ্গের উচ্চমূল্য এবং সরকারের উচ্চশুল্ক হারের কারণে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে পারছেনা তারা। তাই বাড়ানো যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত সেবার মানও।

মোবাইল ইন্টারনেটের এমন বেহাল দশার কারণ কি? কেনই বা আফ্রিকার এমন দরিদ্র দেশগুলো ইন্টারনেট সেবার দিক দিয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে আছে?

গত একবছরে করোনার কারণে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ এর ব্যাবহার বেড়েছে দুই গুণ। কিন্তু এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে টেলিকম কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অর্থাৎ তাদের বেতার তরঙ্গের ব্যাবহার সেই অনুপাতে বাড়েনি। মূলত এই কারণেই গ্রাহকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন না। একটি মোবাইল ফোন তার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনের যে সময় সেটির নির্দেশক হচ্ছে লেটেন্সি ও জিটার।

মিলি সেকেন্ড স্কেলে এই সময় যত বেশি লাগবে। ইন্টারনেটের স্পিড ততই কম হবে।  বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গড় লেটেন্সী ও জিটার যথাক্রমে ৪৩ ও ৪৭ মিলি সেকেন্ড।

যদিও জানুয়ারি মেজারমেন্টে লেটেনসি ও জিটার ছিলো ৩৮ ও ৩৯ মিলি সেকেন্ড। অর্থাৎ, এই জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের ইন্টারনেটের গতি কমেছে।

বাংলাদেশের ইন্টারনেট অপারেটরগুলো কয়েক বছর ধরেই 4G ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে বলে দাবী করে আসছে। এমনকি তারা খুব শীঘ্রই 5G ইন্টারনেট সেবা চালু করবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সত্যিকারের 4G স্পিডের সঙ্গে বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের 4G স্পীডের বিস্তর ফারাক। অপারেটররা তাদের রংচঙে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরো দেশে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার দাবি করলেও, মাঝে মাঝে ঢাকার ভিতরেই ইন্টারনেটের স্পীড নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

১ মন্তব্য

  1. পিংব্যাক: মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান। Network Booster - Pexable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।