ন্যানো টেকনোলজি কি? এই প্রযুক্তি পাল্টে দিতে পারে আমাদের ভবিষ্যৎ।

যদি আপনাদেরকে আমি বলি যে মানুষ বাড়ি তৈরি করবে। ওই বাড়ির বাইরে যে রং করা হবে। সেগুলো সোলার প্যানেল হিসেবে কাজ করবে। এবং ওই বাড়িতে যে ইট ব্যাবহার করা হবে। সেগুলো ব্যাটারি হিসেবে কাজ করবে। তাহলে কি আপনি সেটা বিশ্বাস করবেন?

আবার যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারেনা। কিন্তু এমন গভীর এবং অনাবিষ্কৃত একটি পৃথিবী রয়েছে। হয়তো বলতে পারেন যে ‘মহাবিশ্বে তো কত গ্রহই রয়েছে। সব গ্রহ তো এখনও আবিষ্কার হয়নি।’

কিন্তু আমি যদি বলি আমাদের পৃথিবীর ভিতরেই আরও একটি জগৎ রয়েছে। যে জগৎটি আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হ্যা আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে, এমন এক বিশ্ব যা আমরা খালি চোখে দেখতে পারিনা। এটাকে বলা হয় অনুবিক্ষণিক বিশ্ব।

শুনতে অবাস্তব লাগলেও আমরা কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ থেকে বেশি দূরে নেই। আর এই সবই হতে চলেছে ন্যানো টেকনোলজির জন্য।

ন্যানো টেকনোলজি কি?

ন্যানো একটি গ্রীক শব্দ। যার বাংলা অর্থ হলো সূক্ষ বা ছোট। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হলো এক ন্যানো। এই ন্যানো হলো পরিমাপের একক। বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে নতুন কিছু তৈরি, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ধ্বংস বা সৃষ্টি করাই ন্যানো টেকনোলজি।

তবে ন্যানো প্রযুক্তি নতুন কিছু নয়। বেশ কিছু সেক্টরে ন্যানো টেকনোলজির কাজ গত বিশ বছর আগে থেকেই চলে আসছে। ন্যানো টেকনোলজি যতই ছোট ছোট পার্টিকেল নিয়ে কাজ করুক না কেনো। এটি কিন্তু বেশ শক্তিশালী।

এই টেকনোলজির মাধ্যমেই এনার্জি কনজামশন এফিসিয়েন্সি কে বাড়ানো যেতে পারে। এবং আমাদের চারপাশের ইনভায়রনমেন্ট ক্লিন রাখা যেতে পারে। এছাড়া মানবদেহের জটিল রোগের সমাধানও করা যেতে পারে খুব সহজেই।

ন্যানো টেকনোলজির আরও একটি বিশেষত্ব হলো। এই টেকনোলজির মাধ্যমে তৈরিকৃত যেকোনো প্রোডাক্ট আকারে ছোট হবে। ওজনে খুবই হালকা হবে। আর দামেও তুলনামূলক ভাবে কম হবে।

এছাড়া এই প্রযুক্তিতে প্রোডাক্ট বানাতে র-ম্যাটেরিয়ালস কম লাগবে। এবং এর এনার্জি রিকোয়ারেন্টও কম হবে।

এই প্রযুক্তির সাহায্যেই বায়ো সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স এবং ইলেকট্রনিক্স ফিল্ডে খুবই দ্রুত উন্নতি সাধন করা সম্ভব হবে।

ন্যানো টেকনোলজির আইডিয়া

ন্যানো টেকনোলজির আইডিয়া ফিজিসিস্ট রিচার্ড ফ্রিম্যান এর এক মিটিং থেকে এসেছে। যেখানে তিনি বলেছিলেন “There’s plants a room at the bottom.” আর ২৯ ডিসেম্বের ১৯৫৯ ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে এক আমেরিকান ভৌতিক সংস্থার মিটিংয়ে বলা এই কথা ন্যানো টেকনোলজির দ্বার খুলে দিয়েছিল।

আর ঠিক এর এক বছর পর Professor Norio Taniguchi প্রথম ‘ন্যানো টেকনোলজি‘ শব্দটি ব্যবহার করেন।

আর এর পর ১৯৮১ সালে যখন লেজার স্পেকট্রোস্কোপি আবিষ্কার হলো তখন থেকেই এর উপর বিস্তর গবেষণা চলছে।

আমাদের ফোনের প্রসেসর দিন দিন আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পারফরমেন্স আগের থেকেও বেশি পাচ্ছি। ঠিক তেমনি ফোনের ব্যাটারির সাইজ অনেক কমে গেলেও, ব্যাটারির চার্জ বেশি সময় থাকছে। এমনকি আমাদের ফোনের স্টোরেজ সিস্টেম দিনকে দিন দ্বিগুণ হারে বেড়ে চলেছে। এবং কার্যক্ষমতা নিয়েও কারো কোনো সন্দেহ নেই।

আমরা মেডিসিন কে শরীরের যে জায়গায় দরকার, ঠিক সেখানেই পাঠিয়ে রোগ সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে পারছি। ধারণা করা যায় ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ন্যানো রোবট তৈরি করা হবে ন্যানো টেকনোলজির সাহায্যে। যা চিকিৎসা বিজ্ঞানকে অন্য মাত্রাই পৌঁছে দিবে বলে আশা করা যায়।

বর্তমানে একটি ল্যাপটপ হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সাধারণ ব্যাপার। যা শুধুমাত্র ন্যানো টেকনোলজির জন্যই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কয়েক দশক আগেও একটি কম্পিউটার এর আয়তন হতো একটি ঘরের মতো। সেই সময়ের মানুষ কখনও ভাবেনি। একটা কম্পিউটারকে একটি ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে ন্যানো টেকনোলজির সাহায্যে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।