ওয়েবসাইট কি? ডোমেইন, হোস্টিং কি? [বিস্তারিত এখানে]

আমরা অনেকেই ওয়েবসাইট কি? সেটা না জানার ফলে; ফেসবুক পেইজ অথবা ইউটিউব চ্যানেল কে ওয়েবসাইট  ভাবি।

কিন্তু ফেসবুক পেইজ কোনো ওয়েবসাইট না। ফেসবুক একাউন্ট হলো ফেসবুকের ইউজার আইডি এবং ফেসবুকের একটি ওয়েব পেইজ হলো ফেসবুক পেইজ। সম্পূর্ণ ফেসবুকই একটি ওয়েবসাইট।

ঠিক তেমনি ইউটিউব একটি ওয়েবসাইট। এবং এর সকল চ্যানেল একেকটি ইউজার আইডি।

ওয়েবসাইট কি?

ওয়েবসাইট হলো নির্দিষ্ট একটি ডোমেইন নেম এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট হোস্টিং সার্ভারে ডিজিটাল তথ্য (আপলোডকৃত ছবি, অডিও, ভিডিও, লেখা, এনিমেশন ইত্যাদি যেকোনো ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট) সংরক্ষণ করা হয়।

যা সাধারণ মানুষ ডিজিটাল ডিভাইসে (কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন, ট্যাব ইত্যাদি) ইন্টারনেট কানেকশন যুক্ত করে দেখতে অথবা উপভোগ করতে পারেন।

আমরা অনলাইনে যেকোনো কাজ করার জন্য ওয়েবসাইটের উপর নির্ভরশীল।

আমরা যেগুলোকে সোশ্যাল মিডিয়া নামে জানি। সেগুলোর সবই মূলত একেকটি ওয়েবসাইট। যেমন: ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি।

এই ওয়েবসাইট গুলো আমাদের ব্যাবহারের সুবিধার্থে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এজন্য আমরা এগুলোকে সফটওয়্যার হিসেবেই চিনি।

ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় কিভাবে?

খরচের দিক থেকে চিন্তা করলে ওয়েবসাইট দুই ভাবে তৈরি করা যায়।

  • ডোমেইনইন, হোস্টিং কিনে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট।
  • বিনামূল্যে ওয়েব 2.0 ওয়েবসাইট।

Professional ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম।

ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় ডোমেইন এবং হোস্টিং এর সমন্নয়ে। বিভিন্ন ওয়েব কোড ব্যাবহার করে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করা হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন সিএমএস (কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) ব্যাবহার করেও ওয়েবসাইট তৈরি করে পরিচালনা করা যায়। যেমন: wordpress.com, wix.com ইত্যাদি।

বিনামূল্যে ওয়েব 2.0 ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম।

বর্তমানে এমন অনেক প্লাটফর্ম আছে। যারা ওয়েবসাইট তৈরির কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এদেরকে বলা হয় CMS (Content Management System). এমনই ৬টি প্লার্টফর্ম হলো:

  1. WordPress
  2. Google Blogger
  3. Google Sites
  4. Wix
  5. Weebly
  6. Webnode

এখান থেকে আপনার পছন্দের প্লাটফর্মে একাউন্ট খোলার মাধ্যমে বিনামূল্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

এই ধরনের সাইট বিনামূল্যে হওয়ার কারণে; এদের ডোমেইন গুলো মূলত সাব ডোমেইন দেওয়া হয়ে থাকে।
যেমন: Domain.Blogspot.com, Domain.wordpress.com, Domain.wix.com ইত্যাদি।

তবে ব্লগিং এর জন্য এই ধরনের সাইট বেশি ব্যাবহার করা হয়। আপনি যদি ব্লগিং করেন। তাহলে এতে গুগল এডসেন্স যুক্ত করে আয় করতে পারবেন। এছাড়া এফিলিয়েট মার্কেটিংও করতে পারবেন।

ডোমেইন কি?

ডোমেইন একটি ইংরেজি শব্দ। এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো ঠিকানা।

ডোমেইন হলো ওয়েবসাইট এর নাম। যা একটি ওয়েবসাইট এর মৌলিক পরিচয় বহন করে। যেই নামটি ব্রাউজারে লিখে সার্চ দিলে সরাসরি ওই ওয়েবসাইটটি ওপেন হবে।

একটি ডোমেইন শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইট এর জন্য নির্ধারিত করা হয়ে থাকে। এজন্য ডোমেইন নাম নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা হয়। এবং প্রতিবছর এটার রিনিউ করার প্রয়োজন হয়।

google.com, facebook.com, youtube.com, Wikipedia.org ইত্যাদি বিভিন্ন বড় বড় কিছু ওয়েবসাইটের domain name.

আমরা সচারচর বিভিন্ন নামের ডোমেইন দেখে থাকি। এর মধ্যে .com, .org, .net ইত্যাদি বেশি জনপ্রিয়।

ডোমেইন কেনার নিয়ম।

আপনি যে ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন কিনতে চাচ্ছেন। অথবা, আপনার ওয়েবসাইটের ক্যাটাগরি এবং পছন্দ অনুযায়ী একটি ইউনিক নাম সিলেক্ট করুন।

এর জন্য যেকোনো ডোমেইন রেজিস্টার কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর ডোমেইন চেক করার সার্চ বাটনটিতে আপনার পছন্দের নামটি লিখে সার্চ দিন।

সার্চ দেওয়ার আগে অবশ্যই .com, .org , .net, .me, .xyz, .io ইত্যাদির যেকোনো একটি সিলেক্ট করে নিন। তবে সবথেকে জনপ্রিয় হলো .com এবং .org .net

যদি আপনার পছন্দের ডোমেইন সিলেক্ট করা হয়ে যায়। তাহলে এই ডোমেইনটি আপনি অ্যাড টু কার্ট করে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে পারেন।

এরপরের ধাপে কিছু অ্যাডভান্স অপশন দেখানো হবে।
যেমন: আপনি কয়বছরের জন্য কিনতে চাচ্ছেন, অথবা একবার পেমেন্ট করে লাইফ টাইম ব্যাবহার করতে চান।

আপনি যদি না পারেন। তাহলে কোনো এক্সপার্ট এর দ্বারা কাজ করিয়ে নিতে পারেন।

তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। ডোমেইন নেম কেনার সময় যেনো আপনার email address ব্যাবহার করা হয়।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করার পরে; আপনাকে একটি কনফার্মেশন মেইল পাঠানো হবে। যে মেইলের সাথে আপনার ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল (সিপ্যানেল) দেওয়া হবে। এটি অবশ্যই খুব ভালো ভাবে বুঝে নিতে হবে।
কারণ এটার আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটকে কন্ট্রোল করা সম্ভব।

হোস্টিং কি?

হোস্টিং হলো এমন একটি তথ্য সংরক্ষণ করার  কম্পিউটার যা ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকে।

অর্থাৎ, হোস্টিং এমন একটি সেবা। যার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট পুরো বিশ্বের মানুষ যেকোনো জায়গা থেকে দেখতে পারবে।

Hosting কি ভাবে কাজ করে?

ব্রাউজারে যখন কোনো ডোমেইন নাম লিখে সার্চ  করা হয়। তখন ডোমেইন নাম একটি আইপি অ্যাড্রেস এ রূপান্তরিত হয়ে ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির কম্পিউটারে নিয়ে যায়। যেখানে মূলত ওই সাইটের সকল কন্টেন্ট সংরক্ষিত থাকে।

হোস্টিং কেনার উপায়।

ডোমেইন এর সাথে হোস্টিং সার্ভারও কেনা যায়। এবং একই সাথে প্রতিবছর রিনিউ করা যায়।

Namecheap (বোঝানোর জন্য Namecheap কোম্পানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে) থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করার অপশন গুলো সিলেক্ট করার পর। অটোমেটিক আপনার সামনে হোস্টিং সার্ভার সিলেক্ট করার অপশন গুলো দেখানো হবে।

আর যদি এই অপশনটি আপনাকে না দেখানো হয়। তাহলে আপনি মেনু থেকে হোস্টিং অপশনে ক্লিক করুন। এখানে আপনাকে বিভিন্ন প্রকার হোস্টিং কিনতে বলা হবে। যেমন:

শেয়ার্ড(Shared) হোস্টিং।

সেয়ার্ড হোস্টিং হলো এমন একটি সার্ভার। যেখানে একই সাথে একাধিক ওয়েবসাইটের হোস্টিং সাপোর্ট দেওয়া হয়। একইসাথে নতুন করে কোনো সাইট যদি যুক্ত হতে চায়। তাহলে একই শেয়ার্ড হোস্টিং সার্ভারে যুক্ত করা হয়।

অর্থাৎ, যেকোনো সময় যেকোনো সাইট অন্য সাইটের জন্য স্লো হতে পারে। ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে এই হোস্টিং সার্ভার ব্যাবহার করতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস(WordPress) হোস্টিং।

এটাকে ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজমেন্ট হোস্টিং সার্ভারও বলা হয়। প্রত্যেক হোস্টিং কোম্পানি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ম্যানেজমেন্ট করার জন্য আলাদা করে এই সার্ভার ব্যাবস্থাপনা করেন।

এটি অনেকটা ডেডিকেটেড সার্ভারের মতো। কারণ হোস্টিং কোম্পানি নিজেরাই আলাদা টিম দিয়ে এই সার্ভার ম্যানেজমেন্ট করে থাকে।

একটি ওয়েবসাইট এর হোস্টিং সার্ভারের বিভিন্ন ধরনের কাজ থাকে। যেমন: সিকিউরিটি, আপডেট, ব্যাকআপ ইত্যাদি। এই ধরনের বিষয় গুলো সবই হোস্টিং প্রোভাইডাররা ম্যানেজমেন্ট করে থাকেন।

তবে এই সার্ভারটি শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস ইউজারদের। ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ব্যাবহার করে যে সাইট গুলো তৈরি করা হয়। শুধুমাত্র তাদের জন্য।

ভিপিএস (VPS) হোস্টিং ।

ভিপিএস হোস্টিং হলো শেয়ার্ড হোস্টিং এর মতোই। একই সার্ভার একাধিক সাইটের জন্য ব্যাবহার করা হয়। কিন্তু ভিপিএস সার্ভারে অত্যন্ত ভালো মানের কম্পিউটার ব্যাবহার করা হয়। যেগুলো হোস্টিং কোম্পানি গুলো খুবই যত্নসহকারে ম্যানেজমেন্ট করে থাকে।

ডেডিকেটেড হোস্টিং।

ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার মানে হলো একটি ওয়েবসাইট এর জন্য একটি সার্ভার ব্যাবহার করা হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি এই হোস্টিং সার্ভারটি কিনেন।

তাহলে আপনার একটি ওয়েবসাইট এর জন্য একটি ভালো মানের কম্পিউটার ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকবে। এবং সাইটে হোস্টিং সাপোর্ট দিবে। তবে এই হোস্টিং সার্ভারের খরচ অনেক বেশি।

আপনার ওয়েবসাইট এ যদি অনেক ট্রাফিক আসে। এবং সেখান থেকে আপনার ভালো মানের রেভিনিউ জেনারেট হয়। তাহলে আপনিও ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার ব্যাবহার করতে পারেন।

এখান থেকে আপনার সাবিধা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী হোস্টিং সার্ভার সিলেক্ট করুন। এবং একই সাথে কত বছরের জন্য তাদের হোস্টিং ব্যাবহার করতে চান। সেটাও সিলেক্ট করে পেমেন্ট করুন।

ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল এর মতো হোস্টিং এর জন্যও একটি কন্ট্রোল প্যানেল মেইল করে পাঠানো হবে। যেটা খুবই গুরুত্বের সাথে আপনাকে সংরক্ষণ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।